ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬ , ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে এরপর কী ঘটতে পারে— চারটি সম্ভাব্য দৃশ্যপট

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৪-১৬ ১২:৪৫:২৬
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে এরপর কী ঘটতে পারে— চারটি সম্ভাব্য দৃশ্যপট যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে এরপর কী ঘটতে পারে— চারটি সম্ভাব্য দৃশ্যপট
নিজস্ব প্রতিবেদক
পাকিস্তানের একটি প্রতিনিধিদল তেহরানে পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি দেখে ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা যুদ্ধবিরতি আলোচনা নিয়ে ভাবছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত নিয়ে পাকিস্তানে গত রোববার ২০ ঘণ্টারও বেশি সময় চলা আলোচনা কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হলেও দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি এখনো বহাল রয়েছে।

অমীমাংসিত সেই আলোচনার এক দিনের মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ভাষ্যে ইরান নিয়ে নতুন কৌশলের অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক তেল বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি অবরোধের প্রস্তাব দেন।

প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারার এই ব্যর্থতাকে কীভাবে দেখা উচিত? পরবর্তী আলোচনার সম্ভাবনাই বা কতটা আছে? ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র কি নিয়ন্ত্রিত উত্তেজনা বৃদ্ধির দিকে এগোচ্ছে, নাকি অবশ্যম্ভাবীভাবে বৃহত্তর যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে দেশ দুটি?

পরবর্তী সময়ে কী ঘটতে পারে, তার চারটি সম্ভাব্য দৃশ্যপট নিয়েই এই লেখা।

১. 'কৌশলগত বিরতি' হিসেবে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি

কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা লড়াইয়ের পর যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতিকে সংকট নিয়ন্ত্রণে রাখার স্বদিচ্ছা বলেই ধরে নেওয়া হয়েছিল। তবে শুরু থেকেই বিষয়টি নিয়ে অস্পষ্টতা ছিল।

ভৌগোলিক পরিসর, কোন ধরনের লক্ষ্যবস্তু যুদ্ধবিরতির আওতায় পড়বে, এমনকি ‘যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন’ কী—এসব শর্তের ব্যাখ্যা নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে পর্যবেক্ষকদের কাছে এই সমঝোতাকে টেকসই কাঠামোর বদলে একটি কৌশলগত বিরতি হিসেবে মনে হয়েছে।

‘সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা প্রায় শূন্যের কাছাকাছি ছিল।’ বলেন ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিজের সিনিয়র ফেলো বেহনাম বেন তালেবলু।

‘এগুলো এমন একগুচ্ছ নীতি, অবস্থান ও নীতিমালা; যেগুলো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসলামি প্রজাতন্ত্র বহু বছর ধরে দ্বিমত পোষণ করে আসছে। আর স্বল্প মেয়াদে এই যুদ্ধ সেই পার্থক্য কমাতে ব্যর্থ তো হয়েছেই, বরং তা আরও বাড়িয়েছে’ বিবিসি নিউজ পার্সিয়ানকে বলেন তিনি।

তার মধ্যে দুই দেশের কর্মকর্তাদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পরিস্থিতি আরও খারাপ করেছে।

ইরানের কর্মকর্তারা যেখানে বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের কথা বলছেন, সেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের প্রতিশ্রুতির একটি সীমিত ব্যাখ্যা তুলে ধরছে।

বর্ণনার এই ভিন্নতা কার্যত অবিশ্বাস আরও বাড়িয়েছে। একইসাথে যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়েও সন্দেহ তৈরি করেছে।

আলোচনার টেবিলে ফেরার প্রচেষ্টার কোনো ফলাফল না এলে এই যুদ্ধবিরতি সম্ভবত কেবল সময়ক্ষেপণের একটি মাধ্যম হয়ে থাকবে, যা দুই পক্ষকে আপাতভাবে একটু থামার; নিজেদের অবস্থান পুনর্মূল্যায়ন, পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠনের এবং পরবর্তী পর্যায়ের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ দেবে।

তার ওপর কোনো এক পক্ষ যদি মনে করে যে বর্তমান পরিস্থিতি তাদের জন্য যথেষ্ট লাভজনক নয় এবং চাপ বাড়ানো প্রয়োজন, তাহলে এই ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা আরও বেড়ে যাবে।

উদাহরণস্বরূপ, যুক্তরাষ্ট্র তখন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, যেমন- বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু বা জ্বালানির মতো স্থাপনাকে টার্গেট করাকে সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করতে পারে।

এ ধরনের হামলা স্বল্পমেয়াদে উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করতে পারলেও তা ব্যাপক মানবিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হতে পারে এবং ইরানের পক্ষ থেকে আরও শক্ত প্রতিক্রিয়া উসকে দিতে পারে।

একইসাথে, আলোচনার বিষয়ে খুবই সংশয়ী অবস্থানে থাকা ইসরায়েল প্রভাবশালী ভূমিকায় আবির্ভূত হতে পারে।

"ইসরায়েল আলোচনায় যুক্ত ব্যক্তিসহ ইরানের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বদের হত্যার মতো পদক্ষেপ নিতে পারে," বলেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক হামিদরেজা আজিজি।

তিনি আরও বলেন, "অনিচ্ছাকৃতভাবে হলেও হরমুজ প্রণালি অবরোধের বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত নীতি সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে।"

উত্তেজনা বৃদ্ধির সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া না গেলেও বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাত শুরু হলে যে পরিমাণে খরচ হবে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে যে চাপ তৈরি হবে, সেটা বিবেচনায় নেওয়া হলে নিকটবর্তী সময়ে এমনটা ঘটার সম্ভাবনা কমে আসতে পারে।

 
























 

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ